SEO ( Search Engine Optimization) SEO-Search engine Optimaization

On-page SEO?

May 2, 2020
on-page-seo

On-Page SEO (অনপেজ এসইও), আমরা ওয়েব সাইট তৈরি করার সময় এটাকে তেমন খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। তাই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার পর  গুগলে ইনডেক্স করলে আমরা বলি আমার ওয়েবসাইটটি কেন গুগল র‌্যাংক পাচ্ছিনা। এমনকি অনেক সময় এটা বলে থাকি যে “আমিতো সব কিছু ঠিক মত করেই সাজিয়েছি তাহলে কেন আমার ওয়েবসাইট গুগল র‌্যাংক পাচ্ছেনা?” এই ধরনের সিচুয়েশন আমাদের বেশির ভাগ সময় দেখা যায়।

আসলে আমরা যারা গুগলে র‌্যাংক পাচ্ছিনা বা পাইনা তাদের ৮০% মানুষের ওয়েবসাইটের On-Page SEO (অনপেজ এসইও) ঠিক নেই। তাই বেশির ভাগ ওয়েবসাইট তার র‌্যাংক হারাচ্ছে এমনকি র‌্যাংক নিতে পারছেনা।

তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক On-Page SEO (অনপেজ এসইও) এর ৮টি মারাত্নক ভুল-যে কারণে ওয়েবসাইট র‌্যাংক হারাচ্ছে:

০১) সঠিক টাইটেল ব্যবহার না করা

একটি ওয়েবপেইজ এর সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো টাইটেল। টাইটেল দ্বারা একটি সাইটের সকল কনটেন্ট সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তাই বলা যায় টাইটেল হচ্ছে অনপেজ এসইও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

টাইটেল ব্যবহারের সঠিক নিয়ম:

১) টাইটেল ৫০-৬০ ক্যারেক্টারের মধ্যে হতে হবে। এর বেশি হলে এলিপ্সিস(……) চলে আসবে।

২) টাইটেল এর মধ্যে অবশ্যই মেইন কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।

৩) টাইটেল অর্থবহ এবং সুন্দর হতে হবে।

৪) টাইটেল এর সাথে আপনার ওয়েবসাইটের নাম ব্যবহার করতে পারেন।

৫) টাইটেল সেপারেট হিসাবে হাইপেন(-) বা পাইপ(| ) ব্যবহার করতে পারেন।

২) সঠিক পেজ URL ব্যবহার না করা

পেইজ এর URL টিও আপনাকে সঠিক ভাবে অপটিমাইজেশন করে দিতে হবে।তা না হলে আপনার ইউজার এবং সার্চ ইঞ্জিন দুইদিক থেকেই ক্ষতির সম্মুখীন হবে।কারণ URL কে গুগল র‌্যাংকিং ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

URL-তৈরির সঠিক নিয়ম নিচে দেওয়া হল

১) URL সব সময় ছোট রাখতে হয়।

২) URL পেইজ এ্রর মেইন কীওয়ার্ড দিয়ে করা ভাল।

৩) URL অর্থবহ তৈরি করা।

৪) URL এ সংখ্যা ব্যবহার না করা ভাল।

৫) URL সেপারেট হিসেবে হাইপেন (-) সাইন ব্যবহার করবেন।

৩) মেটা ডিসক্রিপশন এর গুরুত্ব না দেয়া

মেটা ডিসক্রিপশন ব্যবহার না করা অনপেজ এসইও এর জন্য একটি খারাপ সিগন্যাল। একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে অনলাইনে পাবলিশ করা বেশির ভাগ ব্লগে Meta Description ব্যবহার করা হয় না।

এটি ব্যবহার  না করলে ওয়েবসাইটের ক্লিক থ্রোরেট  কমে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে।মেটা ডিসক্রিপশন দেখে পড়ে রিডার তার সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পায়। তাই পোষ্ট পাবলিশ করার আগে সঠিক ভাবে মেটা ডিসক্রিপশন ব্যবহার করা উচিৎ।

Meta Description তৈরির সঠিক নিয়ম:

১) Meta Description ১৫০-১৬০ ক্যারেক্টারের মধ্যে হতে হবে।

২) Meta Description এ মেইন কীওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।

৩) Meta Description অর্থবহ হতে হবে।

৪) ছবিতে ALT Text ব্যবহার না করা

২৬.৭৯% USA, সার্চ গুগল ইমেজ সার্চ এর মাধ্যমে হয়ে থেকে।আমরা গুগল সার্চ থেকে বেশি রেজাল্ট থেকে ভিজিটর পেতে চাই।

আমরা যদি কোনো ছবি পোষ্টে আপলোড করি তাহলে অবশ্যই ছবির ডিটেলসে যেয়ে ALT Tag ব্যবহার করবো। এতে করে আপনার ইমেজটি সার্চ রেজাল্টের উপরের দিকে থাকবে। আর এটা না করা হলে আপনি আপনার মূল্যবান ট্রাফিক হারাতে থাকবেন। তাই কোনো ব্লগ পোষ্ট করার পূর্বে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে ALT Tag সঠিক ভাবে (ইমেজ অপটিমাইজ)  করা হয়েছে কিনা।

ALT Tag ব্যবহারের সঠিক নিয়ম:

১) ALT Tag সবসময় কীওয়ার্ড দিয়ে দিতে হবে।

২) ALT Tag এ ওয়ার্ড সেপারেট হিসেবে স্পেস ব্যবহার করা।

৩) ALT Tag এ কোনো সাইন ব্যবহার করা যাবে না।

৫) Heading Tag ব্যবহার না করা

মোট ৬টি Heading Tag আছে, H1-H6

H1 কে গুরুত্বের দিক থেকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।এরপর ক্রমানুসারে গুরুত্ব কমতে থাকে।

Heading Tag লেখার নিয়ম:

১) পেইজ এর টাইটেল এ H1 Heading Tag ব্যবহার করতে হবে।

২) H1 ট্যাগ একবারই ব্যবহার করা ভাল।

৩) কন্টেন্ট এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হেডিং H2/H3 ট্যাগ ব্যবহার করা ভালো।এ ক্ষেত্রে H2/H3 ট্যাগ একের অধিক ব্যবহার করা যেতে পারে।

৬) Internal link/External Link

আপনি যখন অনপেজ অপটিমাইজেশন করবেন তখন অবশ্যই Internal link/External Link করে দিবেন। এটি ওয়েবসাইটের জন্য খুবই ভাল দিক।আপনি যে ব্লগ তৈরি করেন না কেন সেখানে Internal link/External Link দুটো লিংক থাকা প্রয়োজন।

১) আপনি যে পেজের সাথে লিংক করবেন অবশ্যই সেই পেজের কন্টেন্টের সাথে মিল থাকতে হবে।

২) Internal link এর ক্ষেত্রে লিংক এট্রিবিউট, ডু-ফ্লো এবং External Linkএর ক্ষেত্রে লিংক এট্রিবিউট, নো-ফ্লো রাখতে হবে।

৭) মোবাইল ফ্রেন্ডলি না থাকা

অনেক ওয়েবসাইট আছে যা মোবাইল ফ্রেন্ডলি না। যে কারণে প্রতিনিয়ত তারা ট্রাফিক হারাচ্ছে। আমাদের দেশে না শুধু সারা বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ এখণ মোবাইল দিয়ে নেট ব্যবহার করে। তারা বেশির ভাগ সময় মোবাইল দিয়ে ওয়েবসাইট ভিজিট করে। আর এক্ষেত্রে যদি আপনার সাইটটি মোবাইল ফ্রেন্ডলি না হয় তাহলে আপনার সাইটের ভিজিটর হারাবে। তাই সাইট মোবাইল ফ্রেন্ডলি হওয়া দরকার।

গুগল এর মতে ৫৮% সার্চ আসে মোবাইল থেকে, সুতরাং আপনার ওয়েবসাইটটি মোবাইল ফ্রেন্ডলি হতে হবে।

আপনার ওয়েবসাইটটি মোবাইল ফ্রেন্ডলি কি না তা আপনি নিজেই চেক করতে পারেন।

৮) পেজ লোডিং স্পিড ধীরগতি

পেজ লোডিং স্পিড যত ভাল হবে তা ওই ওয়েবসাইটের জন্য তত ভাল হবে। আপনার ওয়েব সাইটটি যদি ৩ সেকেন্ডের মধ্যে পুরা লোড না হয় তাহলে আপনার সাইটটি ধীরগতি হিসাবে ধরা হয়। আর এই জন্য আপনি আপনার মূল্যবান ট্রাফিক হারাতে পারেন। আপনার সাইট যদি ৩সেকেন্ডের মধ্যে পুরা লোড না হয় তাহলে ১০ জনের মধ্যে ৭ জনই আপনার সাইট থেকে বের হয়ে যাবে। এতে আপনার সাইট ট্রাফিক হারাবে এবং পেনাল্টি খাওয়া বা র‌্যাংক হারানোর সম্ভবনা থাকে।

গুগল এর মতে ৫৩% ইউজার ওয়েবসাইট থেকে বের হয়ে যায় যদি সাইটটি ৩ সেকেন্ডের বেশি সময় ধরে লোড নেয়। সুতরাং আপনার ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড অবশ্যই দ্রুত হতে হবে।

আপনার ওয়েব সাইটের লোডিং স্পিড কত জানতে নিচের সাইট ভিজিট করুন:

একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার পর ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনে তা সুন্দর করে সাজানোকে On-page SEO Optimization বলে।

আরো সহজ করে বললে, মনে করেন আপনি একটি ঘর করেছেন। শুধু ঘর করলেই এর কাজ শেষ হয়ে যায়না। ঘর করার পর এর কাজ আরো বৃদ্ধি পায়। ঘরের বাইরের অংশ কিভাবে সুন্দর হবে তার কাজ করা আর ঘরের ভিতরে কিভাবে সুন্দর করে সাজানো হবে তার কাজ করা। একজন মানুষ দেখেই যেন বুঝতে পারে ঘরটা কেমন।এই যে আপনি আপনার ঘরের ভিতরের অংশ সাজাবেন এই ভিতরের অংশ হলো অণপেজ।অর্থ্যা আপনি আপনার ওয়েবসাইটের ভিতরের অংশের যে কাজ করবেন বা সুন্দর করে সাজাবেন তাকে অনপেজ এসিও বলে।নিশ্চয় অনপেজ এসিও কি বুঝতে পারছেন।

একটি ওয়েবসাইটে টাইটেল, ওয়েবসাইট নাম এবং কন্টেন্ট এই তিনটি অংশ থাকে। এখানে তিনটির মধ্যে টাইটেল গুরুত্বপূর্ণ।টাইটেল ভাল হলে ট্রাফিক ভাল এবং বৃদ্ধি পায় এবং টাইটেল খারাপ হলে ট্রাফিক কমে। টাইটেল এর জন্য গুগল র‌্যাংক বৃদ্ধি পায়। তাই টাইটেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

You Might Also Like

No Comments

Leave a Reply